Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / বিবিসির গোপন ক্যামেরায় রোহিঙ্গা গ্রামের ভিডিওচিত্র (দেখুন ভিডিওচিত্রটি)

বিবিসির গোপন ক্যামেরায় রোহিঙ্গা গ্রামের ভিডিওচিত্র (দেখুন ভিডিওচিত্রটি)

কথিত গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির দল এখন মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো ক্ষমতার অংশীদার হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গাদের রাজ্য রাখাইনে নিষিদ্ধ রয়েছে সংবাদমাধ্যম। জাতিগত নির্মূল প্রক্রিয়ার অসহায় শিকার রোহিঙ্গা জীবনের আর্তনাদ তুলে আনতে তাই গোপন ক্যামেরাকে আশ্রয় করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা।। এক বার্মিজ নাগরিক সেই ক্যামেরা নিয়ে বিবিসির হয়ে নির্যাতিত রাখাইনদের গ্রামগুলোতে গেছেন। সংবাদমাধ্যমটির জন্য তিনি গোপনে ধারণা করেছেন স্থানীয় রাখাইনদের সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকারের ভিডিওচিত্র দিয়ে বিবিসি বাংলা একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তবে নিরপেক্ষ পর্যায়ে ওই ভিডিওচিত্রের যথাযর্থতা নিশ্চিত করা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে তারা। ভিডিও-প্রতিবেদনটিতে হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার যৌন নিপীড়নের বীভৎসতা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন বিবিসির সংবাদদাতা জনা ফিশার।

Loading...

গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করেন গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি)। সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো ক্ষমতার অংশীদার হয় তারা। তবে কথিত এই রাজনৈতিক সংস্কার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অপরিহার্য শর্ত হিসেবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেপারেনি। রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অক্টোবর থেকে দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই রাখাইনে সাংবাদিকদের যাতায়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সে কারণে বড় পরিসরে পরিস্থিতির সরেজমিন কোনও চিত্র পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে বিবিসির গোপন ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করা সম্ভব হয়:
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকার মধ্যে দিয়ে বিবিসির গোপন ক্যামেরাকে সঙ্গী করে হেঁটে যাচ্ছিলেন সে দেশেরই একজন নাগরিক। বিবিসির প্রতিবেদনে তাই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ফেলে যাওয়া ফসলের ক্ষেত আর জনশূন্য পোড়া গ্রামের দৃশ্যপট। সংবাদমাধ্যমে দুইমাসের নিষেধাজ্ঞা থাকা মিয়ানমারের গ্রামের পথ ধরে কয়েক ঘণ্টা হাঁটার পর কজন রোহিঙ্গা নারীর দেখা পেয়েছিলেন তিনি। কথা বলতে সমর্থ হয়েছিলেন তাদের সঙ্গে। বার্মিজ ওই নাগরিক গোপন ক্যামেরায় ওই রোহিঙ্গা নারীদের ভাষ্যে নিজ দেশের নৃশংসতার বিবরণ ও চিত্র তুলে আনতে সমর্থ হন।

Loading...

এই নারীদের কারও কারও স্বামী জাতিগত নির্মূল প্রক্রিয়ার নির্মম স্বীকার হয়ে ইতোমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন। স্বামীরা কোথায়? এমন প্রশ্নে এক নারীর নিঃসহায় উত্তর: ‘আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।’ অন্য এক নারী জানান, তার স্বামীকে সেনা সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছে।

গত কয়েক সপ্তাহে ৩০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা নিজেদের ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। যৌন নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচাতে এদের একটা বড় অংশই বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন।

গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিওচিত্র থেকে তৈরী করা বিবিসির ওই প্রতিবেদনে এক নারী তার পরিবারের নারীদের নিপীড়িত হওয়ার ভয়াবহ বর্ণনা হাজির হয়। ।ওই নারীকে বলতে শোনা য়ায়, তার কন্যা, পুত্রবধূ এবং বোনকে যৌন হেনস্তা করা হয়েছে। কে করেছে ? প্রশ্ন করলে তিনি উত্তর দেন মিলিটারি। জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে শরীরের স্পর্শকাতর অংশে নগদ অর্থ লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু তোয়াক্কা করেনি সেনারা। সেই অর্থও তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

‘ঘর থেকে বের করে ধানক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। একবার নয়। বারবার। আমরা চিৎকার করেছি। বাঁচাবার কেউ ছিল না।’ আরেক নারীর অসহায় আর্তনাদ ফুটে ওঠে এভাবে।

লংডন নামের এক গ্রাম থেকে গোপনে ধারণকৃত ভিডিওতে এই নারীরা যা বলছেন, তা অবশ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে সমর্থ হয়নি বিবিসি। তবে গ্রামের অন্যান্য সূত্র থেকেও হত্যা এবং ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রেঙ্গুন থেকে বিবিসির জোনা ফিশার জানান, বিদেশি কূটনীতিকদের মনোভাব দ্রুত বদলাচ্ছে। সংশয় সত্বেও এতদিন তারা অং সান সু চি’র বিপক্ষে কোনও কথা বলেননি। তবে সু চি ও সেনা নেতৃত্ব একই সুরে নিপীড়নের পক্ষ সাফাই গাইতে থাকায় তারা উদ্বিগ্ন। সু চি’র অফিস থেকে এখন নিয়মিত ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে যে, সেনাবাহিনী আইন মেনে কাজ করছে। কোনও নির্যাতন তারা করছে না। উল্টো রোহিঙ্গারাই তাদের বাড়িতে আগুন দিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এ বছর অক্টোবর মাসের ৯ তারিখে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ এলাকায় সন্ত্রাসীদের সমন্বিত হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর তার দায় চাপানো হয় রোহিঙ্গাদের ওপর। আর তখন থেকেই শুরু হয় সেনাবাহিনীর দমন প্রক্রিয়া। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের দাবি, এরপর থেকেই রাখাইন রাজ্যে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। আর তা এমন কঠোর প্রক্রিয়ায় চালানো হচ্ছে যে সেখানে কোনও বহিরাগত এমনকি সংবাদমাধ্যমকেও প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। জাতিসংঘ এরইমধ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জাতিগতভাবে নির্মূল করার অভিযোগ এনেছে। সংস্থাটি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডেরও অভিযোগও তুলেছে দুই দফায়।

Comments

comments

Check Also

‘মোদী ও অমিত শাহের মাথা কাটলেই পুরস্কার’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের মাথা কেটে আনতে পারলেই মিলবে পুরস্কার! …