Breaking News
Home / ক্রিকেট / ডিয়ার ক্যাপ্টেন, আবেগটা সামলান

ডিয়ার ক্যাপ্টেন, আবেগটা সামলান

শুরুটা দারুন হলেও চলমান বিপিএলের চিটাগাং পর্ব থেকেই খেই হারিয়ে ফেলেছে বরিশাল বুলস।

Loading...

এরপর থেকে টানা হারতে হারতে ২ ম্যাচ হাতে রেখেই টুর্নামেন্ট থেকেই আগেভাগেই বিদায় নিতে হল মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বধীন দলটিকে। স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড়দদের পাশাপাশি দলের সাথে সম্পৃক্ত অন্যান্যরাও তাতে হতাশ।

তবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ম্যাচের আগে রীতিমত বোমা ফাটান জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী ও বরিশাল বুলসের ব্র্যান্ড এম্বোসেডর আসিফ আকবর। তার ফেসবুক স্ট্যাটাসের ভাষ্যমতে তিনি নিশ্চিত যে বরিশাল বুলসের দেশী-বিদেশী বেশ কিছু খেলোয়াড় ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িত। তবে তিনি কোন বিশেষ খেলোয়াড়ের নাম কিংবা ফিক্সিং সংক্তান্ত কোন প্রমাণ উপস্থাপ করেন নি।

Loading...

কুমিল্লার বিপক্ষে ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে এই প্রসঙ্গ ওঠার সাথে সাথেই তেতে ওঠেন জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক। শান্তশিষ্ট মুশফিকুরকে এতটা মেজাজ হারাতে সচরাচর দেখা যায়নি। তবে আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়াটা তার জন্য নতুন কিছু নয়।
আসিফ আকবরের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মুশফিক যেসব ভাষার প্রয়োগ করেছেন সেটাও খুব শোভনীয় নয়। ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে আসিফের সুনাম বেশ পুরনো। বাংলাদেশের খেলা দেখতে দেশের বাইরেও তিনি ছুটে গেছেন অগনিতবার। আর তার ‘শাবাশ বাংলাদেশ’ গানটি তো একসময় জাতীয় দলের অলিখিত থিম সংয়ে পরিণত হয়েছিল। তাই বরিশাল বুলসের ব্যান্ড এম্বোসেডর হলেও খেলাটার প্রতি তার ভালোবাসা কিংবা আবেগ অনুভুতির প্রকাশটা আর দশজন সাধারন দর্শকের মতই।

এজন্যই হয়ত ভাল খেলতে থাকা দলটিকে এভাবে টানা হারতে দেখে তার মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে এবং সোজাসাপ্টা কথা বলায় বিশ্বাসী আসিফ সেটাও বলেও দিয়েছেন।

যদিও দেশের অন্যতম সিনিয়র ও জনপ্রিয় শিল্পী হিসেবে এভাবে কোন প্রমান ছাড়াই অভিযোগের তীর ছোড়াটা তার উচিৎ হয়নি। কারন তার রয়েছে বিপুল ভক্তগোষ্ঠী এবং আসিফের বক্তব্যে তারাও প্রভাবিত হয়ে মুশফিক-নাফীসদের সন্দেহ করতেই পারেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এরই মধ্যে আসিফ এবং মুশফিকের স্ব স্ব ভক্তরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে একে অপরকে দোষারোপ করা শুরু করে দিয়েছেন যা মোটেই কাম্য নয়। এরপরও মুশফিকের উচিৎ ছিল গনমাধ্যমে এভাবে সরাসরি তাকে আক্রমন না করে সামনাসামনি এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা। সুযোগটা তিনি পেতেন, কারন আসিফ তো দলের সাথেই থাকেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। আর এখানেই আরেকবার নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থ হয়ে ভুল কারনে শিরোনাম হলেন মুশফিকুর রহিম।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনেই আসিফ আকবরের মন্ত্যবের জবাব দেয়ার পাশাপাশি নিজ দলের ব্যর্থতা নিয়েও কথা বলেন মুশফিকুর রহিম। সেখানেই এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “যে দল আছে সেটা নিয়ে যে তিনটা ম্যাচ জিতেছি সেটাই আমার কাছে মনে হয় অলৌকিক কিছু!”

এ কেমন কথা!

বরিশালের চেয়েও তো করুন দশা কুমিল্লার। গতবারের চ্যাম্পিয়ন দলটি এবার বাদ পড়ে গেছে ৩ ম্যাচ হাতে রেখেই। কিন্তু মাশরাফি তো সেভাবে নিজ দলকে নিয়ে আক্রমণাত্মক কিছু বলেননি । আর যদি শক্তিমত্তার দিক থেকেও তিনি এমনটা বলে থাকেন, তাহলেও বলতে হবে মুশি বড্ড ভুল বলেছেন। কারন অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল নিয়ে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ খুলনা টাইটানন্সকে সেরা চারে পথে নিয়ে যাচ্ছেন। তাই কোনদিক থেকেই তার এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

যেকোন দলেরই খারাপ সময় আসতেই পারে। অধিনায়কের তখন দায়িত্ব থাকে দলকে আগলে রাখা। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে মুশফিক বারবারই দলের ওপর প্রকাশ্যে ক্ষোভ ঝাড়ছেন কিংবা অধিনায়কের দায়িত্ব থেকেই অব্যাহতি নিচ্ছেন।

এর আগেও বিপিএল, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন আসরে তিনি মাঝপথে নেতৃত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। জিম্বাবুয়ের কাছে পরাজয়ের পর জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব থেকেও সরে দাড়িয়েছিলেন। কিন্তু সেসময় বোর্ড তাকেই অধিনায়কের দায়িত্বে বহাল রাখেন।
বিপিএল একটি ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট। এখানে একটি দলের আইকন খেলোয়াড় ও অধিনায়ক হলেও দিনশেষে মুশফিকের মুল পরিচয় তিনি জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক। একটা জাতীয় দলের অধিনায়ক হওয়াটা অনেক গর্বের ব্যাপার। তাই আশা করা যায় ভবিষ্যতে তিনি এই ভুল থেকে শিক্ষা নিবেন এবং পরিস্থিতি অনুকুলে না থাকলেও নিজের আবেগটা নিয়ন্ত্রণে রাখবেন।

পত্রিকার পাতায় আমরা শুধু মুশফিকুর রহিমের ব্যাটিং কীর্তির সংবাদ দেখেতে চাই, অন্য কিছু নয়।

লিখেছেন: রিমন ইসলাম

Comments

comments

Check Also

নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নিলেন সাকিব (সরাসরি ভিডিও)

স্মিথকে বোল্ড করে নিউ জিল্যান্ড একাদশের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নিলেন সাকিব। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত …